রাজধানীতে দূর্যোগ মোকাবেলা ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে বিবেচনায় না রেখেই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। টোকিও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার স্থপতি হিডিক ইফসিওফা বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া তিনটি অগ্নিকান্ডের উপর রিসার্চ করে এ তথ্য জানিয়েছেন।
শনিবার দুপুরে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত ‘‘নগর পরিকল্পনায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা’’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত থকে তিনি এ তথ্য জানান।
হিডিক বলেন, ‘‘বসুন্ধরা সিটি, সাভারের গরিব এন্ড গরিব গার্মেন্টস ও নিমতলী ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ওপর গবেষনা করে দেখা যায় এসব অগ্নিকান্ডে ক্ষয়ক্ষতির মূল কারণ ফায়ার প্রটেকশন ব্যবস্থা না থাকা।’’
তিনি বলেন, ‘‘বসুন্ধরা সিটির মতো সুউচ্চ ও আধুনিক ভবনে অগ্নি প্রতিরোধক কোন উপদান ব্যবহার করা হয়নি। অগ্নিকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর তা অগ্নি উৎস থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনে ব্যবহৃত উপাদান থেকে। আধুনিক শহরগুলোতে সুউচ্চ ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অগ্নি নিরোধক দরজা ও জানালা ব্যবহার করা হয় কিন্তু বসুন্ধরা ভবনের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।’’
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ এধরণের অগ্নিকান্ডে একই পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে আশঙ্কা করে হিডিক বলেন, ‘‘ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যথাযথ বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা উচিত। আর এক্ষেত্রে ভূমিকম্প ও অগ্নিকান্ডের মতো দূর্যোগকে বিবেচনায় রেখে নির্মাণ উপাদান ব্যবহার করা উচিত।’’
পবা মিলানায়তনে আয়োজিত এই সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টোকিও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শিনিচ সুগাহারা।
শিনিচ সুগাহারা তার মূল প্রবন্ধের সম্প্রতি জাপান ও চীনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সুনামি ও ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, বিশ্বের সর্বাধুনিক এসব রাষ্ট্রের অবকাঠামোগুলো সহজেই ধ্বংস করে দিয়েছে সুনামি ও ভুমিকম্প।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দূর্যোগ মোকাবেলাকে প্রধান্য দেয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ভূমিকম্প প্রবন এলাকার মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম শ্রেণীর দেশ হলেও অনুন্নত অবকাঠামোর জন্য সামান্য ভূমিকম্পে ঢাকা চট্টগ্রামের মতো বড় বড় শহর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এ এম এম সফিউল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম, আমেরিকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশর (এআইইউবি) স্থাপত্ব বিভাগের অধ্যাপক স্থপতি সঞ্জিব বড়ুয়া, পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান ও লন্ডনস্থ বাঙ্গালী আন্তর্জাতিক সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুল হক।
অধ্যাপক এ এম এম সফিউল্লাহ বলেন, ‘‘রাজধানীতে একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে প্রায় পাঁচ হাজার ভবন ধসে পড়বে। এসব ভবনকে দ্রুত অপসারণ না করা হলে এর ফলে অন্যান্য ভবনও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘ আধুনিক নগর পরিকল্পনায় বিল্ডিং কোডের শক্তিশালী প্রয়োগ না থাকলে পরিকল্পিত নগরায়ন ব্যহত হয়। সরকার একটি বিল্ডি কোড প্রণয়ন করছে। এটি খুব প্রয়োগ না করলে জাপান ও চীনের মতো ভয়াবহ দূর্যোগ বাংলাদেশকেও বরণ করতে হবে।
ইনিউজ/আরএইচ/১৫.০০
পাঠকের মন্তব্য