নোয়াখালীর উপকূলীয় চরাঞ্চলের নলের চর আজিম নগর গ্রামে ভূমিহীন আবুল কালাম মাঝির স্ত্রী সাবেক ইউপি মেম্বার অপহৃত রায়হেনা বেগম এখনো বন ও জলদস্যু ধর্ষকরা অবরুদ্ধ করে রাখা অপহরনের গত ২৪ ঘন্টা পরও রহস্যজনক কারনে পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।
ভিকটিমের হাতের দুই আঙ্গুল পুড়িয়ে দেয় ওই বন ও জলদস্যূরা। গতকাল শনিবার রায়হেনা বেগমকে শাররীক ও পাশবিক নির্যাতনের সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হয়।
এ সংবাদ প্রকাশে পুলিশ প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সর্বমহলে জেলা সদর মাইজদী সহ অপর উপজেলায় তোলপাড় শুরু হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অহৃত রায়হেনা বেগমকে বনদস্যু ধর্ষকদের কবল থেকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। সূত্রে জানায়, ভিকটিমের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে শনিবার বেলা ৩টায় চরক্লার্ক ইউনিয়নে থানার হাট দস্যুদের আস্তানা থেকে গ্রাম্য ডাঃ ফারুকের নেতৃত্বে জেলা সদর মাইজদী একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে ৮টায় বন ও জলদস্যু বাহিনীরা অপহর করে তাদের আস্তানায় নিয়ে যায়।
৪ ঘন্টা ধরে নিজাম ডাকাত, বাহিনী মালেক ফরায়েজী, আফসার বাহিনী, পান কামাল, এর নেতৃত্বে ভিকটিমকে অপহরণ করে নাঙ্গলিয়ারচর তাদের আস্তানায় শাররীক ও পাশবিক নির্যাতন করে। বাহিনীরা রাতভর পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন করলে ভিকটিম চিৎকার করলে তার হাতের দু’টি আঙ্গুল পুড়িয়ে দেয়।
এদিকে আবুল কালাম স্থানীয় মুরশেদ বাজার আইসি কেন্দ্রের সংবাদ দেয়। আইসি কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৫/৬ জন পুলিশ বাহিনীদের আস্তানা থেকে শুক্রবার রাত ১২টায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে আবুল কালামের বাড়িতে নিয়ে যায়। মামলা ও গ্রেপ্তার এড়াতে ওই বাহিনীরা গত শুক্রবার সকাল ৮টায় দ্বিতীয়বার ভিকটিমের বাড়ি থেকে তাকে চিকিৎসার নামে অপহরণ করে চরক্লার্ক থানার হাট গ্রাম্য ডাঃ ফারুকের ক্লিনিকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আবুল কালাম দ্বিতীয় বার অপহরনের সংবাদ আইসি কেন্দ্রে দিলেও পুলিশ রহস্য জনক কারনে গত ২৪ ঘন্টা পরও ভিকটিমকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি।
জানাগেছে হাতিয়া উপজেলার আওয়ামীলীগের সাবেক বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আলীর ওই বন ও জলদস্যুরা সমর্থক থাকায় পুলিশ অপহৃতাকে উদ্ধারের নিষ্কৃয়তা রয়েছে।
পুলিশ সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, রায়হেনা বেগম হাতিয়া চর ঈশ্বর ইউনিয়নের সাবেক মহিলা মেম্বার। ওই ইউনিয়ন নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় গত ৫ বছর আগে ভিকটিম ও তার স্বামী আজিম নগর খাস জমিতে ঘর নির্মান করে। গত ৬ মাস আগে ওই বাহিনীরা ভিকটিম ও তার স্বামীর কাছে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে।
ভিকটিম তাদেরকে চাঁদা না দিয়ে স্থানীয় নলের চর মোর্শেদ বাজার আইসি পুলিশ কেন্দ্রে বাহিনীদের চাঁদার ব্যাপারটি জানায়। এ সংবাদ বাহিনীদের কাছে জানাজানি হয়ে যায়। ঘটনার দিন রাতে ওই বাহিনীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রায়হেনা বেগমের বসত ঘরে অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ে। এসময় আবুল কালাম ও ভিকটিম বাহিনীদেরকে বাধা দিতে গেলে ভিকটিম ও তার স্বামী আবুল কালামকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে।
বাহিনীরা ভিকটিমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের আস্তানায় নিয়ে শারীক ও পাশবিক নির্যাতন করায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ভিকটিম। আবুল কালাম এ সংবাদ মোর্শেদ বাজার আইসি কেন্দ্রে ইনচার্জকে জানান। ইনচার্জ মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৬/৭ জন পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ভিকটিমকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করলেও দ্বিতীয়বার বাহিনীরা আবারও অহরণ করে নিয়ে যায়।
এদিকে সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুর রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার জানান, আইসি কেন্দ্রের ইনচার্জ মিজানুর রহমান তাকে সংবাদ দেয় অপহৃতা ভিকটিমকে গতকাল শনিবার দস্যুরা তাদের আস্তানা থেকে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে মাইজদী চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। ভিকটিমকে কোন হাসপাতালে রেখেছে এব্যাপারে তল্লাশি চলছে। একই কথা বলেন মোর্শেদ বাজার আইসি কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান।
ই-নিউজ/প্রতিনিধি/জেএ/১৭.৩০ঘ
পাঠকের মন্তব্য