মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভতির্র সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ‘জনস্বার্থে’ হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছেন আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ ।
সরকারের (মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করে জিপিএর ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভতির ) সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভর্তিচ্ছুদের বিক্ষোভ চলাকালে সোমবার সুপ্রিম কোটের্র সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি দাখিল করেন ড. আকন্দ ।
মঙ্গলবার বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পাওে বলেও জানান এই আইনজীবী।
রিট আবেদনে দুটি রুল এবং দুটি অন্তবর্র্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভতির্র সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার ও বাতিলে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না- তা জানতে রুল চেয়েছেন ইউনুস আলী।
একইসঙ্গে ওই সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা স্থগিত করার অন্তবর্র্তীকালীন আদেশ এবং ২০১২-১৩ সেশনে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভতির্র বিজ্ঞাপন প্রকাশের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিট আবেদনে।
ইউনুস আলী আকন্দ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলই নিজেদের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। বুয়েট অচল করে দিয়েছে। এখন মেডিকেল ধ্বংস করে দিতে চায়। ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া মেডিকেলে ভর্তি করলে এই শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। মেধাবীরা বঞ্চিত হবে। পরীক্ষা না হলে ভর্তি থেকেই দুর্নীতি বাড়বে।
এই রিট আবেদনে স্বাস্থ্য সচিব, শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রোববার এক সভার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক জানান, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভতির্র জন্য চলতি বছর থেকে আর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এখন থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএর ভিত্তিতেই এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
আবেদনের জন্য দুই পরীক্ষা মিলিয়ে অন্তত ৮ জিপিএ থাকার শতের্র কথা জানান তিনি।
বাংলাদেশের সবগুলো মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলিয়ে মোট ৮ হাজার ৪৯৩টি আসন রয়েছে।
এর মধ্যে ২২টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসন সংখ্যা ২ হাজার ৮১১টি। আর ৫৩টি বেসরকারি মেডিকেলে ৪ হাজার ২৪৫ জন শিক্ষার্থী ভতির্র সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া ৯টি ‘পাবলিক’ ডেন্টাল কলেজ ও মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ৫৬৭টি আসন রয়েছে।
সরকার গত বছর থেকে বাংলাদেশের সব ধরনের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে যৌথভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে।
সারাদেশের ২০টি কেন্দ্রে ৪০ হাজারের বেশি ছাত্র গত বছর পরীক্ষায় অংশ নেয়। তখন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ন্যূনতম যোগ্যতা ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার যে কোনো একটিতে জিপিএ ৩.৫ সহ মোট জিপিএ ৮।
ই-নিউজ/অপি/জেএ/ইসি/১৭.৩০ঘ
পাঠকের মন্তব্য