নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করছেন বিএনপি’র পদত্যাগী নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সামনে রেখে এ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তিনি। রাজনৈতিক দলটির নাম রাখা হচ্ছে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)। সূত্র-মানবজমিন
নেপথ্য থেকে ব্যারিস্টার হুদাকে সাহস যোগাচ্ছেন মূলধারার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়া সরকারি ও বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন রাজনীতিক। বিরোধী দল বিএনপি’র নিষি্ক্রয়, বহিষ্কৃত ও সাবেক আমলারা প্রাধান্য পাচ্ছেন এ দলে। বিশেষ করে জিয়াউর রহমানের সময়ে বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু নেতা এ উদ্যোগে জোরালো সমর্থন দিচ্ছেন।
সুবিধাজনক সময়ে তারা প্রকাশ্যে এ দলের কর্মকান্ডে যুক্ত হবেন। সেই সঙ্গে সারা দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে পদবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে প্রাথমিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে- রাজধানীর তোপখানা রোডের ২৭/১১/২ নম্বরের ছয়তলা বাড়িটিতে।
শুক্রবার রাজধানীর ইম্পিরিয়াল হোটেলে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে নতুন রাজনৈতিক দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটবে। আপাতত আহবায়ক হিসেবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের নাম ঘোষণা করা হবে। আগামী ৭ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর বড় কোন মিলনায়তনে দলটির প্রথম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। কনভেনশনে দেশের রাজনীতিতে খ্যাতনামা ১০১ রাজনীতিবিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি পরবর্তী কাউন্সিল পর্যন্ত দলটির সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করবে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটির পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে। বিএনএফ-এর সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালনকারী আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানিয়েছেন। উদ্যোক্তা সূত্রে জানা গেছে- সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী জামালউদ্দিন আহমেদ, লে. জে. (অব.) মজিদুল হক, চৌধুরী তানভীর আহমদ সিদ্দিকী, ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, হাবিবুল্লাহ খান, আতাউদ্দিন খান, সাবেক হুইপ আশরাফ হোসেন, আবদুল করিম আববাসী, সাবেক মন্ত্রী আরিফ মাইনুদ্দিন, আবুল কাশেমের সঙ্গে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার আলোচনা হয়েছে। তারা নতুন এ রাজনৈতিক দলে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন।
এছাড়া, বিগত চারটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কিছু সামরিক-বেসামরিক ব্যক্তিত্বও ব্যারিস্টার হুদার নেতৃত্বে নতুন এ দলে যোগ দেয়ার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন। সংগঠনের সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলই সহিংসতার রাজনীতি করে। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে আগ্রহী সকল নেতার নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। সুবিধাজনক সময় সংগঠনের প্রতিটি পদে তারা প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন।
বিএনএফ সূত্র জানায়, নতুন এ রাজনৈতিক দলে এমন কিছু নেতা যুক্ত হবেন যারা এলাকায় জনপ্রিয় কিন্তু সংস্কারপন্থি অভিধা বা কোন্দলের কারণে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঠাঁই পাননি। এমনকি বিএনপি স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ঢাকা মহানগরীর একাধিক নেতার সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনএফ’র উদ্যোক্তারা।
ই-নিউজ/অপি/জেএ/০০.০১ঘ
পাঠকের মন্তব্য