জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এ কথা উল্লেখ করে এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
উপাচার্য আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ আমাদের পূর্ব অনুমতি না নিয়ে আবাসিক হলে প্রবেশ করেছে। ছাত্রলীগ নেতা লিখন আহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক ছাত্রকে আটক করলে শুরু হয় পুলিশ –ছাত্র সংর্ঘষ। এ সময় পুলিশের ছোড়া রাবার-বুলেটে ৩ ছাত্র আহত হন।
তিনি বলেন, আহত ছাত্রদের আমি নিজে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় উচ্ছৃশৃঙ্খল বা বিক্ষুব্ধরা আমাদের গাড়িতে আক্রমণ চালিয়ে ভাঙচুর করে।
তিনি আরো বলেন, যারা ১৬ ঘণ্টা ঢাকা –আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে তারা কোনো দিনই প্রকৃত ছাত্র হতে পারে না। যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এ সমস্ত ঘটনায় ক্যাম্পাসে সেশন জট হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে—উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা কেন? এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ও প্রভোস্টকে নিয়ে মীর মোশারফ হোসেন হলে প্রবেশ করা হয়েছে।
ছাত্রলীগ নেতা লিখনের ওপর হামলাকারীকে ধরতে মীর মোশাররফ হলে পুলিশের প্রবেশ অতপর ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্তের জন্য ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করছে তদন্ত কমিটি। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. ফরহাদ হোসেনকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মতবিনিময়ের সময় তদন্ত কমিটির প্রধান প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. ফরহাদ হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. নাসির উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিকসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় পুলিশের কাজে বাঁধা ও মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬ ছাত্রের নামোল্লেখসহ ১৫০ জনকে আসামি করে আশুলিয়া ও সাভার থানায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আগামী ২৫ আগষ্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারি পরীক্ষা শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় মারাত্মক আহত হন ইংরেজি বিভাগের ৩৭তম ব্যাচের ছাত্র জুবায়ের। পরদিন ভোরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার জের ধরে গত বুধবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা তাহমিদুল ইসলাম লিখনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগে আরেক ছাত্র নাহিদকে আটক করাকে কেন্দ্র করে জাবিতে রাতভর পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদের সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ ছাত্র গুলিবিদ্ধ ও কমপক্ষে আরো ২০ জন আহত হন।
এর আগে বুধবার দুপুরে জাবির প্রশাসনিক ভবনের সামনে জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ছাত্রলীগের সাফিম-সাম্য গ্রুপের পক্ষে লিখনের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে মানববন্ধন করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা লিখনকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে।
ই-নিউজ/প্রতিনিধি/জেএ/১৮.৩০ঘ
পাঠকের মন্তব্য