বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে সরকার যদি আগাম নির্বাচন দিয়ে বসে, তাই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। বিরোধী দলের কুটিরে ইতিমধ্যে রটে গেছে সামনের বছরের প্রথমার্ধে নির্বাচন হয়ে যেতে পারে। তাই ঘর গোছানোর আর নিবার্চনের প্রস্ত্ততিটাও জোরেশোরে নিচ্ছে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।
দলীয় এক সূত্রে জানা গেছে, ১৮ দলীয় জোটের শরিকদের জন্য ৫০টি খালি রেখে বিএনপি ২৫০ আসনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে। তবে এ ২৫০ আসনে আবার বিকল্প তালিকাও রয়েছে। কারণ তাদের আশঙ্কা, দলের অনেক বড় বড় নেতাকে ফৌজদারি মামলায় দন্ডিত করে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হতে পারে। আবার কোনো কোনো আসনে প্রার্থীরা নির্বাচনের আগে অসুস্থ বা জনমতও হারাতে পারেন। তখন বিকল্প প্রার্থী সামনে আনা হবে। বেসরকারি দুটি সংস্থা দিয়ে বিরোধী দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধানে সারা দেশে জরিপ করা হয়েছে। এ জরিপের মধ্য দিয়ে ২৫০ জন চূড়ান্ত ও ২৫০ জন বিকল্প তালিকায় এসেছেন। সূত্র জানায়, শরিকদের ৫০টি আসনে ছাড় দেবে না। এর বৃহৎ ঐক্যের সম্ভাবনার দুয়ার মাথায় রেখে ৫০টি খালি রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্তদের মধ্যে শতাধিক নাম বাদ পড়বে। ওই নির্বাচন ছিল অগোছালো, তাড়াহুড়োর। এবার নির্বাচন গোছানো এবং জেতার জন্য হবে। ওই নির্বাচনে সংস্কারের তকমা থাকায় অনেক শক্তিশালী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এবার ভোটযুদ্ধের লড়াই হবে ক্ষমতার। তাই সংস্কারপন্থি বলে কিছু নেই। যিনি জিতবেন তাকেই রাখা হয়েছে তালিকায়।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের বরাত দিয়ে একটি বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ‘‘এ মুহূর্তে নির্বাচন হলে বিএনপি ম্যাডামের সঙ্গে এক ঘণ্টার বৈঠক করে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে পারবে। সেভাবেই চূড়ান্ত ও বিকল্প প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে।’’ বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বললেন, ‘‘সারা দেশেই আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিটি এলাকায় গড়ে দুজন করে প্রার্থী রাখা হয়েছে। একজন চূড়ান্ত এবং আরেকজন বিকল্প। এ মুহূর্তে যদি দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রয়োজন হয় তাহলে ম্যাডামের নেতৃত্বে দলের পার্লামেন্টারি পাটির্র বৈঠক ডেকে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে আড়াইশ মনোনয়ন প্রদান সম্ভব। আরও কম সময়ে করতে হলে নামের তালিকায় ম্যাডামের স্বাক্ষর দিতে যতটুকু সময় প্রয়োজন সে সময়ের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করা সম্ভব। এ ছাড়াও পঞ্চাশটির মতো আসন রাখা আছে জোটের শরিকদের সঙ্গে দেন-দরবারের জন্য। সেখান থেকেও আরও ২০-২৫টি আসনে শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী দেওয়া হবে।’’
এদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘‘সারা দেশেই আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। আগামীকালও যদি সরকার নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দেয়, তাহলে একদিনের মধ্যেই সারা দেশে সব আসনেই আমরা প্রার্থী দিতে প্রস্তুত। চলমান আন্দোলনই হচ্ছে আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না এবং এ ধরনের নির্বাচন হতেও দেওয়া হবে না।’’
এদিকে লন্ডন ভ্রমণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিবার্চনকালীন সরকারের ব্যাপারে আলোচনার যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তা নাকচ করে প্রধান বিরোধীলীয় নেতা খারেদা জিয়া বলেছেন ‘নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে।’
এদিকে দুই নেত্রীর আস্থাভাজন ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর নিবার্চনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা আহবানের মধ্য নিবার্চন জটিলতার অনেকখানি লাঘব হতে পাওে জানিয়ে প্রধান বিরোধী দলকে আলোচনার টেবিলে বসারই আহবান জানালেন।
সবকিছু মিলে এই মুহুতে দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নির্বাচন ভাবনাটাই যে মুখ্য হয়ে ওঠেছে এমনটাই বললেন বিশেষজ্ঞরা।
ই-নিউজ/অপি/জেএ/ইসি/১৪.৩০ঘ
পাঠকের মন্তব্য