পদত্যাগের ঘোষনা দেবার পর সুইজাল্যান্ডর জেনেভাতে সিরিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক দূত কোফি আনান বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ সরকারের একগুয়েমির কারনেই তিনি তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।
তবে সাংবাদিকদের মি: আনান একথাও বলেছেন যে , সরকার বিরোধীরা যেভাবে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে সেটিও তার দায়িত্ব পালনকে কঠিন করে তুলেছে।
সিরিয়ার বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে চীন এবং রাশিয়ার যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে সে বিষয়টিকেও মি: আনান সমালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন, সিরিয়ার সংকট সমাধানের জন্য সেখানকার বিবাদমান পক্ষগুলোর উপর যখন সমন্বিত চাপ প্রয়োগের দরকার ছিল তখন নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো সেটি না করে পরষ্পরকে দোষারোপ এবং সমালোচনা করেছে।
এদিকে মি: আনানের সরে যাবার কারন হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও প্রেসিডেন্ট আসাদকেই দায়ী করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে প্রেসিডেন্ট আসাদের সরকার ছয়দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করে বারবারই তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।
জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সুজান রাইছ বলেছেন রাশিয়া এবং চীন নিরাপত্তা পরিষদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করে মি: আনানের মিশনকে অসম্ভব করে তুলেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন মি: আনানের মতো একজন দক্ষ কূটনীতিকের এভাবে সরে দাড়ানোতে তিনি দু:খিত।
তবে সিরিয়ার সংঘাত বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট আশা করেন।
এছাড়া জাতিসংঘে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত বলেছেন সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতে মি: আনানের কাজ করাটা যে অসম্ভব হয়ে উঠেছে সেটি পরিষ্কার।
সেজন্য তার এই পদত্যাগ কোন বিস্ময়কর বিষয় নয় বলেও উল্লেখ করেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত।
এদিকে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে পাওয়া খবরে জানা যাচ্ছে, গতকাল সেখানে ফিলিস্তিনি একটি ক্যাম্পে কয়েকটি মর্টার আঘাত হানলে অন্তত বিশজন নিহত হয়েছেন।
ইফতারের সময় চলাকালীন শহরের একটি ব্যস্ততম রাস্তায় মর্টার আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সূত্র-ওয়েবসাইট
পাঠকের মন্তব্য