টেকনাফে সাগর, নদী ও চাষাবাদের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। টানা বর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে যেতে না পারায় সংশ্লিষ্ট মাছ বাজার গুলোতে প্রায় মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে।
যদিও কিছু কিছু জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে উত্তাল সাগরে গেলেও আগের মতো মাছের চাহিদা মেটাতে পারছেনা। যা মিলছে তাও অত্যন্ত চড়া দামে যা সাধারণ ক্রেতারা কিনতে পারছেন না। আর এ কারণে রোজাদারদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
মাছের মধ্যে চাষাবাদের মাগুর, রুই, কাতল, মৃগেল, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া প্রজাতির মাছ মোটামুটিভাবে পাওয়া গেলেও তা অত্যান্ত চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। পাঙ্গাস যেখানে ৮০ থেকে ৯০ টাকা বিক্রি হতো সেখানে রমজান মাসে এখন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া সাগরের লইট্যা, পোপা, গুইজ্যা, ঝাটকা ইলিশ, চিংড়ি, বাটা, টেংরা, বাইলা ও কোরালসহ হরেক প্রজাতির মাছ বাজারে আসলেও এখন আবহাওয়া জনিত কারণে জেলেরা সাগর ও নদীতে মাছ ধরতে যেতে না পারার কারণে পবিত্র এ রমজানে মাছের এ আকাল সৃষ্টি হয়েছে। টেকনাফের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়- লইট্যার দাম রমজানের পূর্বে ৮০-৯০ টাকা ছিল তা এখন ১২০-১৫০ টাকা, পোপা ৭০-৮০ টাকা থেকে ১২০-১৪০ টাকা, গুইজ্যা ১৪০-১৫০ থেকে ৩০০-৩৫০ টাকা। এভাবে প্রতিটি ছোট থেকে বড় পরিমানের মাছের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েই চলেছে। যা আগের তুলনাই শতকরা ৬০-৭০ হারে বেশী।
এমন মূল্য বৃদ্ধির কারণে গরীব খেটে খাওয়া মানুষ মাছের ধারে কাছেও যেতে পারছেনা। মাছের মূল্য বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে মাছ ব্যবসায়ী আলী জোহার জানান- ‘‘আবহাওয়া জনিত কারণে সাগর উত্তাল থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গেলেও জালে মাছ কম আসায় তাদের খরচ মেটাতে পারছেনা। তাই তাদের কাছ থেকে উচ্চ দামে মাছ ক্রয় করতে হচ্ছে’’।
তবে এ রমজানে বিভিন্ন প্রজাতির শাকসহ তরী-তরকারীর দাম স্বাভাবিক থাকায় প্রায় পরিবারে সবজি দিয়েই চাহিদা মেটাচ্ছে। বাজারে মাছ কিনতে যাওয়া এক ক্রেতা নুরকবির জানান- মাছের যে দাম আমাদের মত খেটে খাওয়া স্বল্প আয়ের লোকের দ্বারা ক্রয় করা বড়ই মুশকিল।
সাধারণ ক্রেতারা মাছ বাজারের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার মনিটরিংসহ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের নজরদারী বাড়ানোর প্রতি জোর দাবি জানান।
এমএস/জেএ. ১৮.২৫ঘ.
পাঠকের মন্তব্য