পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেও কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বিশ্বব্যাংক এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যুক্তরাজ্য সফরে বিবিসির হার্ডটকে দেয়া সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্বব্যাংক, পদ্মা সেতু ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গ ছাড়াও সংবিধান সংশোধন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অবৈধ ক্ষমতা দখল বন্ধে ও জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।
দুর্নীতি না হয়ে থাকলে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেকেই তাকে চাপ দিয়েছে। তাই তিনি পদত্যাগ করেন। আর তা করে তিনি সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।’
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ না করার ব্যাপারে বিবিসির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী সরকারের বাধ্যবাধকতা তুলে ধরে পাল্টা প্রশ্ন রাখেন, কেন বিশ্বব্যাংক তা প্রকাশ করছে না?
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে খারাপ সম্পকের্র কারণ কি ড. ইউনুস? তাঁকে কেন রক্তচোষা বলেন জানতে চাইলে জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এজন্য আমাদের দেশে আসতে হবে। নিজ চোখে দেখতে হবে। আমি কখনো তার নাম উল্লেখ করে কিছু বলিনি। আপনি কীভাবে জানলেন আমি তাকেই বলেছি?’
তিনি আরো বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখা দরকার ড. ইউনূসের কৌশলে তার নিজের গ্রামের দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে কিনা। এভাবে দারিদ্র্য বিমোচন হয় না, হয়নি। বর্তমান সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির কারণেই ১০% দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে।’
জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারার কারণেই কী বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া বা ড. ইউনূসের ওপর রাগতজানতে চাইলে জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, জাতীয়ভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধই আছি।
বিরোধীদলের বিরোধিতার মুখে সংবিধান পরিবর্তন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা উঠিয়ে দিয়ে গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলা নিয়ে বিবিসির প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘না, সংবিধান পরিবর্তন করে আমরা জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। গণতান্ত্রিক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করলে তা গণতান্ত্রিক অধিকারকেই রক্ষা করে।’
আগামীতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব ছাড়বেন কিনা জানতে চাইলে জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সিদ্ধান্ত নেবে দল আর জনগণ। এছাড়া রাজনীতির বাইরে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিবিসির প্রশ্ন ছিল, আগামী ৩০ বছরে বাংলাদেশের ৩ কোটি মানুষ জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে সর্বস্ব হারাবে বলে যে আশংকা করা হচেছ তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ কী করছে?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, নিজস্ব তহবিল গঠন করে ১৩২টি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ড্রেজিং, আশ্রয়কেনদ্র ও বাঁধ নির্মাণে মাঠে রয়েছে সরকার। তবে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করতে হলে দায়ী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ পাওয়াটা বিশেষ প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ সাক্ষাতকারে বিশ্বব্যাংক, পদ্মা সেতু, ড. ইউনূস, গ্রামীন ব্যাংক ও মানবাধিকার লঙঘনে র্যাবের ভূমিকার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে বিবিসির একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ও আলোচিত ব্যক্তিত্বরা বিবিসির হার্ডটক অনুষ্ঠানমালায় হাজির হন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচিত বা সমালোচিত স্থানীয় অনেক সমস্যা বা দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো সামনে রেখেই আমন্ত্রিত অতিথিকে অনেক অপ্রিয় প্রশ্নেরও জবাব দিতে হয়। যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে বিবিসির হার্ডটকে এবারের অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ই-নিউজ/অপি/জেএ/১৮.৩০ঘ
পাঠকের মন্তব্য