চাঞ্চল্যকর দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সোমবার আবারও সাক্ষ্য দিচ্ছেন আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ও নগরের বন্দর থানার কয়লার ডিপো পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন। বর্তমানে নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত এ সার্জেন্ট দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছিলেন। রোববারও সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিন আদালতে সাক্ষ্য দেন। এরপর দ্বিতীয় দিন সোমবার তিনি তার অসমাপ্ত সাক্ষ্য আদালতে উপস্থাপন করছেন। সোমবার দুপুর সোয়া ১২টায় চট্টগ্রামের বিচারক এস এম মুজিবুর রহমানের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাতে দশ ট্রাক অস্ত্র আটকের পর ২০০৫ সালে সে চালান থেকে দুটি একে-৪৭ অস্ত্র চুরি করে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন সার্জেন্ট হেলাল উদ্দিনসহ দু’জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছিল র্যাব। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে নোয়াখালীর সুধারাম থানায় মামলাও হয়েছিল। রোববার দেওয়া সাক্ষ্যে এসব কথা বলতে গিয়ে র্যাবের হেফাজতে নির্যাতনের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আসামিদের মধ্যে যারা আদালতে হাজির হয়েছেন তারা হলেন, জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই’র তৎকালীন মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র তৎকালীন পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন, উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, ফিল্ড অফিসার আকবর হোসেন খান, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা সিইউএফএল’র সাবেক এমডি মোহসীন তালুকদার, চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান ও ট্রলার মালিক দীন মোহাম্মদ। অসুস্থ থাকায় সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক এনামুল হককে আদালতে হাজির করা হয়নি। এছাড়া সম্পূরক চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম’র (উলফা) সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব নূরুল আমিন বর্তমানে পলাতক আছেন। প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ১ এপ্রিল রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) জেটিঘাটে দশ ট্রাক অস্ত্রেও এ চালানটি ধরা পড়ে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকে প্রায় সাড়ে ৩ বছর অধিকতর তদন্তের পর ২০১১ সালের ২৬ জুন সিআইডি আদালতে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। এরপর ওই বছরের ১৫ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিচার। এ মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক শিল্পসচিব ড. শোয়েব আহমেদ, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএইফআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমি, বিসিআইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইমামুজ্জামান বীরবিক্রম, এনএসআই’র সাবেক পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এনামুর রহমান চৌধুরী, ডিজিএফআই’র সাবেক ডিটাচমেন্ট কমান্ডার কর্নেল (অব.) এ কে এম রেজাউর রহমান, এনএসআই’র সাবেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সিএমপি’র বন্দর জোনের তৎকালীন উপ-পুলিশ কমিশনার আবদুল্লাহ হেল বাকী, সাবেক ডিআইজি (এসবি) শামসুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি (সিআইডি) ফররুখ আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদুর রহমানসহ ১২ জন এরই মধ্যে সাক্ষ্য ই-নিউজ/প্রতিনিধিজেএ/১৩.৪০ঘ
পাঠকের মন্তব্য