লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মিয়ার হাটে আ’লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে ২৫জন গুরুতর আহত হয়েছে।
সোমবার সকালে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর ও মাইজদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউনিয়ন আ’লীগের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। রশিদ মোল্লা গ্রম্নপ ও মিন্টু ফরায়েজী গ্রম্নপের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মুখোমুখি অবস্থান করছে। যেকোন মুহুর্তে আবারও রক্তÿয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে মিয়ার বাজারে মিন্টু ফরায়েজীর সমর্থক বেপারী বাড়ীর লোকজনের সাথে মোলস্না গ্রম্নপের সমর্থক মাঝি বাড়ির লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আহত হয়- ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক বিএম শাহজালাল রাহুল (৩০), আ’লীগ সমর্থক আমিন বেপারী (৫০), জুলহাস মোল্যা (২৫), খালেক মাঝি (৬০), জববর মাঝি, জয়নাল মাঝি (৬০), নাইম (৩০), বদিউজ্জামান (৩৫), আনোয়ার মাঝি (৪০), সাইফুল (২০), মাইন উদ্দিন (২৪), ফরহাদ বেপারি (১৮), আবদুল মান্নান, নাছির আহমেদ, আনোয়ার হোসেন, খালেক মাঝি ও আলী আজগর মাঝিসহ উভয়পক্ষের ২৫ জন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় শাহজালাল রাহুল ও আমিন বেপারীকে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় আ’লীগের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮নং দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়ন আ’লীগের সম্মেলন গত ২৯ জুন স্থানীয় উপকূলীয় এল কে এইচ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
ওইদিন উত্তেজনার মুখে কোন সিদ্ধামত্ম ছাড়াই উপজেলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দ সম্মেলন স্থগিত করে চলে আসে। পরে ২জুলাই রায়পুর শহরে বসে আ’লীগ নেতৃবৃন্দ আবদুর রশিদ মোল্যাকে সভাপতি ও মিন্টু ফরায়েজীকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করেন। এরপর আবদুর রশিদ মোল্যাকে বিএনপির সুবিধাভোগী নেতা আখ্যায়িত করে মিন্টু ফরায়েজী অনুসারীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে এবং এ কমিটিকে তারা পকেট কমিটি আখ্যায়িত করে লক্ষ্মীপুর জেলা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে লিখিত অভিযোগ করে।
জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহিমের নেতৃত্বে সিনিয়র নেতারা গত রোববার (২২ জুলাই) তদমেত্ম আসলে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরম্ন হয়। ওই সময় মোলস্না গ্রম্নপের সমর্থকদের হাতে ফরায়েজী সমর্থক ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফারম্নক ক্বারী আহত হয়। একই সময়ে মোলস্না গ্রম্নপের এক কর্মী বেপারী বাজারে আহত হয়। এর ধরে গতকাল আবারও সংঘর্ষ শুরম্ন হয়।
এদিকে এ সংঘর্ষের ঘটনায় আবদুর রশিদ মোল্যা ও মিন্টু ফরায়েজী একে অপরকে দোষারোপ করে বক্তব্য দিয়েছেন।
এ ঘটনায় রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, দলীয় কমিটি নিয়ে আবদুর রশিদ মোল্যা ও মিন্টু ফরায়েজীর লোকদের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এখন পর্যমত্ম কোন মামলা হয়নি।
ই-নিউজ/প্রতিনিধি/জেএ/১৮.১০ঘ
পাঠকের মন্তব্য