গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত সিরিয়ায় দেখা দিল নয়া সঙ্কট। বুধবার দুপুরে আত্মঘাতী হানায় নিহত হলেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাউদ রাজিহা ও সহকারী প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ শওকত।
স্বৈরাচারী ও বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের ঘনিষ্ঠ এই দুই মন্ত্রী নিহত হওয়ায় ফের সরকারি সেনা ও বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরুর আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
সংবাদসংস্থা রয়টার্স ও সিরিয়ার সরকারি সংবাদসংস্থা সানা জানিয়েছে, রাজধানী দামাস্কাসের ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ দপ্তরে আত্মঘাতী হামলা চালায় এক ব্যক্তি। বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, আত্মঘাতী হামলাকারী আদতে দাউদ রাজিহারই ব্যক্তিগত দেহরক্ষী। ওই হামলায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী আসিফ শওকতও।
আসিফ শওকত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভগ্নিপতি এবং সরকারের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা। হামলায় গুরুতরভাবে জখম আহতদেরকে নিকটবর্তী আল সামি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দামাস্কাসের রাওডা এলাকায় ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ দফতরের ওই বাড়িতে দেশের মূল গোয়েন্দা শাখাগুলোর একটির প্রধান কার্যালয়। মন্ত্রী ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠক চলার সময়ই সেখানে ঢুকে হামলা চালায় ওই দেহরক্ষী।
এতে গুরুতর আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও।
বোমা হামলার পিছনে আসাদ সরকারের প্রধান বিরোধী তথা বিদ্রোহী বাহিনী 'ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে' সন্দেহ করা হচ্ছে। এদিকে, গত ৪৮ ঘণ্টায় সিরিয়ায় আসাদ বিরোধী সেনাদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে সেনাবাহিনীর ৬০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
সোমবার বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৪০ থেকে ৫০ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। আর গতকাল মঙ্গলবার নিহত হয়েছেন ২০ জনের মত। টালমাটাল সিরিয়ায় শান্তি ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ দূত কোফি আন্নান।
ফ্রান্স, আমেরিকা, ব্রিটেন সহ পশ্চিমী শক্তিগুলি সিরিয়ায় ক্ষমতাসীন আসাদ সরকারকে ফেলে দিতে সেনা অভিযানের পক্ষপাতী। তারা বিদ্রোহীদের সবরকম মদতও দিচ্ছে। কিন্তু অত্যাচারী, স্বৈরাচারী আসাদের পাশে সর্বশঅক্তি নিয়ে দাঁড়িয়েছে চিন ও রাশিয়া।
তারা পশ্চিমী শক্তিগুলিকে সিরিয়ায় ঢুকতে দিতে নারাজ। এই অবস্থায় সিরিয়ায় চলছে যুদ্ধ, গণহত্যা, লুটতরাজ, ধর্ষণ ও মানুস পাচার।
সিরিয়া ছেড়ে সেখানকার লোকজন অন্য আরব দেশগুলিতে পালাচ্ছেন।
ই-নিউজ/জেএ/১৩.৩০ঘ
পাঠকের মন্তব্য