আন্দোলনের নামে শিক্ষকরা পদত্যাগ করলে প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকেŠশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. এসএম নজরুল ইসলাম। শিক্ষক সমিতির দেয়া গণপদত্যাগের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
এদিকে, উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে (প্রোভিসি) অপসারণের দাবিতে ২ ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এ সময় আন্দোলনকারি শিক্ষকরা জানান, আগামী রোববারের মধ্যে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যকে অপসারণ করা না হলে তারা গণপদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন।
বুয়েটে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক সমিতির লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিসহ অন্য কর্মসূচিও চলছে। আর লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপাচাযের্র কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর মধ্য দিয়ে টানা অষ্টম দিনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
শিক্ষকদের এ সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ প্রতারণা এ মন্তব্য করে বুয়েট উপাচার্য বলেন, প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থায় ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া হবে।
এর আগে সোমবার বুয়েটের সকল বিভাগীয় প্রধান ও ডিনদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ জানান, বুয়েটের চলমান সঙ্কট নিরসনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
রোববার বিকেলে রাষ্ট্রপতি ও বুয়েটের আচার্য মো. জিল্লুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন বুয়েট শিক্ষক সমিতির ৪ সদস্য।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই সকাল থেকে বুয়েটে অবস্থান কর্মসূচি চলছে। আর ওইদিন বিকেলে আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বুয়েটের সব কয়টি অনুষদ, বিভাগ এবং ইনস্টিটিউটের প্রধানসহ ২৪ পদত্যাগ করেন।
নজরুল ইসলাম ও সহ-উপাচার্য হাবিবুর রহমানের অপসারণসহ ১৬ দফা দাবিতে গত ৭ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করছে বুয়েট শিক্ষক সমিতি। প্রায় এক মাস কর্মবিরতি পালনের পর গত ৪ মে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যান। এরপর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আর কমিটি একটি রিপোর্ট দিলে শিক্ষকরা তা গ্রহণ না করে ফের আন্দোলনের ঘোষণা দেন।
এর অংশ হিসেবেই ১১ জুলাই থেকে এ অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন বুয়েট শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ই-নিউজ/কেআর/জেএ/১৩.৪০ঘ
পাঠকের মন্তব্য