ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ভাগ করায় নাগরিক সেবার মান বাড়া নিয়ে সংশয় জানিয়েছে নগর বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে রাজধানীতে সিটি কর্পোরেশন ছাড়াও ৫০টির বেশি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জনবল ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি বা বিভক্ত না করে শুধু সিটি কর্পোরেশনকে ভাগ করলে নাগরিক সেবার মান বাড়বে না বরং সমন্বয়হীনতার জন্য কমতে থাকবে।
নগর বিশেষজ্ঞ স্থপতি মোবাচ্ছের আলী বলেন, ‘‘এতো দিন রাজধানী ঢাকা ছিল বহু পিতার এক সন্তান এবার বৈধ পিতার সংখ্যা আর একজন বেড়ে গেল।’’ তিনি বলেন, ‘‘রাজউক, ওয়াসা, ডেসা ও ডিপিডিসির মত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সবই স্বায়ত্বশাসিত। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রমের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে দায়বদ্ধ নয়। ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে দুই ভাগ কেন একশ ভাগ করলেও সেবার মান বাড়বে না বরং কমে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি ’’।
ডিসিসিকে বিভক্ত হলেও মৌলিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অবিভক্ত। আগের জনবল ও কর্মক্ষমতা দিয়েই তাদের এখন দুই সিটি কর্পোরেশনের সেবা দিতে হচ্ছে। এতে করে তাদের কাজের কোন সুবিধা হবে না বরং অসুবিধাটাই চিন্তার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা।
ঢাকার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ডিসিসিকে বিভক্ত করায় তাদের কাজে কোন সুবিধা হচ্ছে না বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক প্রকৌশলী শেখ মো. আবদুল মানণান। তিনি বলেন, ‘‘ডিসিসি ভাগের ফলে দুই জন মেয়র ঢাকাকে সেবা দিবেন, কিন্তু রাজউক তার আগের জনবল দিয়েই রাজধানীর উন্নয়নে কাজ করছে। তাই ডিসিসি ভাগ করায় রাজউকের কাজে কোন সহযোগিতা হচ্ছে না।’’
আবদুল মান্নান বলেন, ‘‘ রাজধানীর উন্নয়নে রাজউক যে ধরনের কাজ করে তার দুই একটার সাথে সিটি কর্পোরেশনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। বাকি কাজগুলো রাজউক, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধিনেই করে থাকে।’’
রাজউকের এই পরিচালক আরো জানান, ‘‘অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজউক ও সিটি কর্পোরেশনের একটা সমন্বয় থাকে। তবে এ কাজে একটা সিটি কর্পোরেশন থাকাকালে যে সুবিধা পেয়েছি তা দুইটার ক্ষেত্রে বাড়বে না। বরং দুইটা সিটি কর্পোরেশনের সাথে সমন্বয় করতে অসুবিধাও হতে পারে।’’
রাজউকের মতো রাজধানী পয়নিষ্কাশন ও পানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসাও কোন সুবিধার কথা চিন্তা করছে না।
এ ব্যাপারে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তকসীম এ খান বলেন, ‘‘ডিসিসিকে ভাগ করায় ওয়াসার কার্যক্রমে কোন সুবিধা হবে না। ওয়াসাকে আগে যত মানুষের সেবা করতে হয়েছে এখনও সেই একই সংখ্যক মানুষের সেবা করতে হচ্ছে। তাছাড়া ওয়াসার কাজের সঙ্গে ডিসিসির কোন সম্পৃক্ততাও নেই যাতে সেবার মান বাড়বে।’’
তিনি বলেন, ‘‘ওয়াসা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধিনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্বায়ত্বশাসিত হলেও অনেক কাজে সরকারের উপর নির্ভর করতে হয়।’’ কিছু কিছু কাজে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে তবে ডিসিসি ভাগের ফলে এসব কাজের উপর কোন প্রকার প্রভাব পড়বে না বলেও জানান ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
ইনিউজ/আরএইচ/এএফ/১৮.৩০
পাঠকের মন্তব্য