ইনিউজবিডি(ভারত, ২৪ ডিসেম্বর): ভারতে বিশ্ববিদ্যালয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে বহু আকাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধনী) পাস করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকার দাবি করছে, রাজনীতিমুক্ত, সুষ্ঠু এবং শিক্ষা অনুকূল পরিবেশ গড়তে এই বিল খুবই সহায়ক হবে।
শুক্রবার বিধানসভায় পাস হওয়া এই বিলে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং কাজে ব্যর্থতার দায়ে উপাচার্যকে অপসারণের বিধান রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট-কাউন্সিলে (সিনেট-সিন্ডিকেট) বর্তমান বা সাবেক শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে থাকার সুযোগও। তবে শিক্ষার্থীদের রাজনীতি করার সুযোগ থাকছে আগের মতোই।
অতীতে উপাচার্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে রাজ্যপাল সহ-উপাচার্য নিয়োগ করতেন। ফলে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল অনকেটাই। আর নয়া এই বিলে এখানে উপাচার্যের কোনো ভূমিকাই রাখা হয়নি। এতোদিন কেবল রাজ্যের মধ্যে থেকেই উপাচার্য নিয়োগ হত। এ বার ভিন রাজ্য এমনকি বিদেশ থেকেও যোগ্য ব্যক্তিকে এনে উপাচার্য করার সুযোগ থাকবে।
রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতিকে দায়ী করে গত অক্টোবরে একটি অধ্যাদেশ জারি করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। আর এ অধ্যাদেশটিকেই আইনে পরিণত করতে আনুষ্ঠানিক বিল আকারে বিধানসভায় পাস করা হয় শুক্রবার।
এদিকে বামফ্রন্ট মনে করে, ওই বিলে এই পাঁচটি বিষয়ে যা যা বলা হয়েছে, তাতে দলতন্ত্রই আরো মজবুত হবে, গণতন্ত্র সংকুচিত হবে। বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্রসহ একাধিক বাম বিধায়ক বিলটি সিলেক্ট কমিটিতে পাঠিয়ে বড় পরিসরে, এমনকি শিক্ষাবিদদের ডেকেও আলোচনার প্রস্তাব দেন। সরকার অবশ্য তা খারিজ করে দেয়।
প্রস্তাবিত বিলে এশিয়াটিক সোসাইটি, আইএসআই বা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের প্রতিনিধিদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনিক কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যপাল এম কে নারায়নকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার এই বিলে ২৬টি সংশোধনী আনে। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু প্রত্যাশিতভাবেই তার সব ক’টি গ্রহণ করেন। বিরোধী বামফ্রনেটর আনা ৯৮টি সংশোধনীর সব ক’টিই খারিজ হয়ে যায়। এসইউসি বিধায়ক তরুণ নস্কর ওই বিলে ১৩টি সংশোধনী আনেন। তার একটি সরকার গ্রহণ করেছে।
ইনিউজবিডি/ এএস/ওআর/ ১৫.৪৮ঘ.
পাঠকের মন্তব্য